Pages

20 August 2016

VPN এর পূর্ণ রূপ- Virtual Private Network. সোজা বাংলায়, VPN একটা কাল্পনিক ‘Tunnel’ যার মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এই ‘Tunnel’--এর বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই, এটি মূলত কাল্পনিক একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে বোঝানো হচ্ছে যা দিয়ে ইন্টারনেটে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। ইন্টারনেট মূলত উন্মুক্ত তথ্য আদান প্রদানের জায়গা। যেহেতু এটি পাবলিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ, পৃথিবীর সবাই সংযুক্ত তাই এখানে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করায় বেশ ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিই VPN। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার জন্য ইন্টারনেটে একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ তৈরী হয়।VPN-এর শ্রেণীবিভাগঃ
PPTP VPN, Site to Site VPN, L2TP VPN, Remote Access VPN, IPsec, SSL, MPLS VPN, Hybrid VPN ইত্যাদি।
কিভাবে VPN কাজ করে?
একটি VPN সার্ভারে VPN ক্লায়েন্ট একটি বাহ্যিক নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের মাধ্যমে সংযুক্তহতে পারেন। VPN-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার জন্য ইন্টারনেটে একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ তৈরী হয় (যেটা আমরা আগেই বলেছি)। এই পদ্ধতিতে তথ্য encrypted অবস্থায় আদান- প্রদান করা হয়, ফলে তথ্যগুলো সুরক্ষিত থাকে। VPN এর জন্য প্রাইভেট নেটওয়ার্কে একটা VPN সার্ভার থাকে এবং ব্যবহারকারীর পিসিতে VPN ক্লায়েন্ট কনফিগার থাকে। যখন কোন ব্যবহারকারী VPN এর মাধ্যমে তার প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে চাইবে প্রথমে তার পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে এর পর VPN ক্লায়েন্টের মাধ্যমে VPN সার্ভারে লগিন করবে। লগিন করার পর যদিও ব্যবহারকারী তার নেটওয়ার্ক থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে তারপরেও সে প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সব সুযোগ সুবিধাগুলো পাবে।
VPN-এর সুবিধাগুলো কি কি?
১। VPN ব্যবহার করার অর্থ হল আপনি ডাটা নিরাপদে আদান প্রদান করতে পারছেন।
২। VPN ব্যবহার করলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না।
৩। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে। অর্থাৎ, হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা নাই।
৪। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন।
৫। VPN দিয়ে আপনি আইএসপি তে ব্লক করা সাইট ভিজিট করতে পারবেন। যেমন ধরেন, যদি ইউটিউব আমাদের দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলেও আপনি VPN ব্যবহার করে ইউটিউবে ঢুকতে পারবেন।
৬। এটি নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগে। মানে VPN আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।
তবে এত সুবিধার পরেও VPN-এর কিছু অসুবিধা রয়েছে।
এর প্রধান অসুবিধা হচ্ছে এটি আপনাকে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোডের সুবিধা দেবে না এবং এটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর। VPN সার্ভিস ফ্রি কিংবা প্রিমিয়াম হতে পারে। যদিও অধিকাংশ VPN সার্ভিসের ক্ষেত্রেই টাকা গুণতে হয়। তবে কিছু জনপ্রিয় ফ্রি VPN সার্ভিস রয়েছে, যা দিয়ে আপনি প্রিমিয়ামের কাছাকাছি সুবিধা পাবেন।
যেমন- ProXPN, Hotspot Shield, Cybershost, SecurityKiss, SpotFlux ইত্যাদি।
ভিপিএন, ‘ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক’ যখন একটি পাবলিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একাধিক কম্পিউটারকে (বা আলাদা নেটওয়ার্ক) একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়, তখন তাদের ভিপিএন বলে। নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা অ্যানক্রিপ্ট করার একটি পদ্ধতি হিসেবে এটি কাজে লাগে। মানে ভিপিএন আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব ডাটা দ্রুততার সঙ্গে এনক্রিপ্ট করে ফেলে অর্থাৎ পাবলিক ডোমেইন থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরির কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ। যদিও বেশির ভাগ ভিপিএন সার্ভিসের জন্য টাকা গুনতে হয়। তবে কিছু ফ্রি সার্ভিসও আছে। ফ্রি ভিপিএন সার্ভিসের কিছু উপকারিতা রয়েছে।
সুবিধা : সম্পূর্ণ ফ্রি সার্ভিস। এর জন্য আপনাকে কোনো সার্ভিস চার্জ গুনতে হবে না। অ্যাডবিহীন সার্ভিস অর্থাৎ কোনো ধরনের বিরক্তিকর অ্যাড নেই। ব্লক হওয়া সাইটে নিরাপদে ভিসিট করতে পারবেন। হ্যাকারদের হাত থেকে মুক্তি। এর মাধ্যমে অনলাইনে আপনার আইপি লুকায়িত থাকবে। ফলে হ্যাকারদের কবলে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন। তবে কিছু অসুবিধাও আছে। যেমন ধরুন, এটি সম্পূর্ণভাবে ইন্টানেটের ওপর নির্ভরশীল। এটি আপনাকে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোডের সুবিধা দেবে না। চলুন কিছু ফ্রি ভিপিএন সার্ভিস সম্পর্কে জানা যাক।
ProXPN সার্ভিস : অতি জনপ্রিয় সার্ভিস। এটি আপনি উইন্ডোজ এবং ম্যাকে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ব্যবহারের জন্য আপনাকে ছোট একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে হবে এবং এটি দ্বারাই ভিপিএন কানেক্ট করতে হবে।
Cybershost সার্ভিস : কেবল উইন্ডোজ পিসিতে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি আপনাকে মাসে ১ জিবিএন ক্রিপ্টেড ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা দেবে। সার্ভিসটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে আপনি পছন্দ মতো সার্ভার বাছাই করতে পারবেন না। ওয়েব সার্ফিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ভালো একটি সার্ভিস।
Hotspot Shield সার্ভিস : এটি উইন্ডোজ ম্যাক এবং আইফোনে ব্যবহার উপযোগী। বলতে পারেন এটি একটি সেলফ সাপোর্ট সার্ভিস। এটি অ্যাড ফ্রি নয়। অ্যাডের মাধ্যমে ওরা ফান্ড সংগ্রহ করে।
SecurityKiss সার্ভিস : এটি আপনাকে প্রতিদিন ৩০০ মেগাবাইট ব্যান্ডউইথ দেবে। এ সার্ভিসটি অ্যাঙ্সে করার জন্য আপনাকে securitykiss সফটওয়্যার দরকার হবে এবং এটি কেবল উইন্ডোজে ব্যবহারযোগ্য। যদি সিকিউরিটির ব্যাপারে খুঁতখুঁতে হন তাহলে আপনার জন্য পেউড ভিপিএন ব্যবহার করার পরামর্শ থাকবে।

No comments:

Post a Comment